বাসস
  ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৩

সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর সন্ধানে নজরদারি জোরদার

সুন্দরবনে অবমুক্ত করার পর বাঘিনীর অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ছবি: বাসস

বাগেরহাট, ২২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি শিকারিদের ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত বাঘিনীটিকে চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার পর এখনো অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।  বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রায় ৮বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাপিং ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও অবমুক্তির এক মাসের বেশি সময় পরও কোনো ক্যামেরায় বাঘিনীটির ছবি ধরা পড়েনি।

শিকারিদের ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে গত ১২ জুলাই সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করে বন বিভাগ।

এরআগে গত ৩ জানুয়ারি শরকির খালসংলগ্ন এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হয় বাঘিনীটি। পরে ট্রাঙ্কুইলাইজার প্রয়োগ করে  বাঘিনীকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে  চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হয়।

অবমুক্তির পর বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে আন্ধারমানিক এলাকায় ২০টি স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে শ্যালনদীর পূর্ব পাড় ও জয়মনি এলাকায় আরও ২০টি ক্যামেরা বসানো হয়। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ওই এলাকার বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণির চলাচল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত উদ্ধার ও চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করা বাঘিনীটির উপস্থিতি কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

অন্যদিকে, আন্ধারমানিকের গভীর বনে স্থাপন করা ক্যামেরায় আরও তিনটি বাঘিনীর বিচরণের তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে অবমুক্ত বাঘিনীটি বর্তমানে কোন এলাকায় রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে বন বিভাগ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির পায়ের ছাপ প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল। এতে ধারণা করা হয়েছিল, অবমুক্তির পর সে ওই এলাকায় চলাচল করেছে। তবে এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।