বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৬

টানা বৃষ্টিতে পটিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, জনদুর্ভোগ 

টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম (দক্ষিণ), জুলাই ৯, ২০২৬ (বাসস) : মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা ও ভাটিখাইন, শোভনদন্ডী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে যাওয়ায় জরুরি চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ির উঠান, বসতঘর ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও দিনমজুররা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তাদের ভাষ্য, এক রাতের বৃষ্টিতেই কয়েক মাসের বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলো রান্না, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বাসস’কে বলেন, অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রেখে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির যে ক্ষতি হয়েছে, তা দ্রুত তালিকাভুক্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বাসস’কে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।