শিরোনাম

রাঙামাটি, ৭ জুলাই, ২০২৬, (বাসস) : রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী শহরের পৌর সভাধীন বিভিন্ন ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসক শহরের ভেদভেদিস্থ শিমুলতলী, রূপনগর এলাকা এবং লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়ের বিভিন্ন ঢালু এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
এ সময় অতিরিক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, পুলিশ এবং রেডক্রিসেন্টের সদস্যসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বাসসকে বলেন, আজ সকাল থেকে আমি নিজে শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছি। এবারের টানা বর্ষণে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনামূলক প্রচারণার পাশাপাশি তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রশাসন।
এছাড়া পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, টানা বর্ষণে রাঙামাটির বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসের উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রাণহানি এড়াতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও পৌরসভা যৌথভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলেছে। ইতোমধ্যে বাঘাইছড়িতে পাহাড় ধসে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১টিসহ জেলায় সর্বমোট ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন শেষে শহরের লোকনাথ মন্দিরের হলরুমের আশ্রয়কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে ২১টি পরিবারের মোট ৭০ জন নারী-পুরুষ-শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য জরুরি খাবার ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এখনও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ বসবাস করছেন। পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি, লোকনাথ মন্দির এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে অসংখ্য পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব এলাকাতেই পাহাড় ধসের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ৫০ হাজার মানুষ। অতীতেও এসব এলাকার অনেকগুলোতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে সেনা সদস্যসহ প্রায় ১২০ জন ও ২০১৮ সালে ১১ জন মানুষ মারা যান।
অতীতের মতো পাহাড় ধসে যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবারত সকলকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।