শিরোনাম

নাটোর, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : পারিবারিক পর্যায়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নাটোর সদর উপজেলার ২শ’ কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে বিনামূল্যে জিংক বায়োফর্টিফাইড বিনাধান-২০ বীজ প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী জাতি গঠনে বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি ও মেধা বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে প্রতিদিন বয়সভেদে নির্ধারিত মাত্রায় জিংক গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে সকল বয়সের মানুষের দেহে জিংকের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই অবস্থার উত্তরণে বায়োফর্টিফিকেশনের মাধ্যমে জিংক ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ এই ধানের চাষাবাদ প্রসারের জন্যে সরকার কাজ করছে। কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই ধান চাষের সম্প্রসারণ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার নীলিমা জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক কল্যাণ প্রসাদ পাল ও জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম এবং নিউট্রিশাস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. জাকিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ২শ’ জন নির্বাচিত কৃষক ও কৃষাণীকে বিনামূল্যে ৫ কেজি করে জিংক বায়োফর্টিফাইড বিনাধান-২০-এর বীজ প্রদান করা হয়। বীজ প্রদানের আগে জিংক বায়োফর্টিফাইড ধান চাষের উৎপাদন কলাকৌশল, মানসম্মত বীজ ব্যবহার, সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক পুষ্টির গুরুত্ব ও সুস্থ্যতা, পারিবারিক পর্যায়ে জিংকসমৃদ্ধ চালের ব্যবহার এবং মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
মাল্টি-সেক্টরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (এমএআইএন) প্রকল্পের আওতায় নিউট্রিশাস এগ্রিফিউচার বাংলাদেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী এবং বীজ প্রদানের মাধ্যমে এমএআইএন প্রকল্প কৃষকদের মানসম্মত বীজ প্রাপ্তি, জিংকসমৃদ্ধ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন এবং পারিবারিক পর্যায়ে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি আমন মৌসুমে নাটোর জেলার নাটোর সদর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম ও নলডাঙ্গা উপজেলায় ৮শ’ কৃষককে বিনামূল্যে জিংক বায়োফর্টিফাইড বিনাধান-২০ বীজ প্রদান করা হচ্ছে। হারভেস্ট প্লাস সলুউশনস্ নাটোর জেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ধানের বীজ প্রদানের দায়িত্বে কাজ করছে। এছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় এক একর জমিতে একটি করে প্রদর্শনী খামার স্থাপন করে কৃষকদের জন্যে এই ধানের উৎপাদন প্রযুক্তি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে।