শিরোনাম

কিশোরগঞ্জ, ১৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : কিশোরগঞ্জের হাওর ও নদী এলাকায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধকল্পে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৪৫টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
গতকাল বুধবার দিনব্যাপী জেলার কটিয়াদী, মিঠামইন, নিকলী ও ভৈরব উপজেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে জব্দ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৯ হাজার ৫শ’ মিটার দৈর্ঘ্যের চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে পরিচালিত অভিযানে ৩০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৫শ’ মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অভিযানে সহযোগিতা করে কটিয়াদী বাট্টা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
একই দিনে মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ফুলবাড়িয়া নদী ও তৎসংলগ্ন হাওরে অভিযান চালিয়ে ৫০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২হাজার ৫শ’ মিটার এবং মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। অভিযান পরিচালনা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এ সময় মিঠামইন থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের ফিল্ড সহকারীরা সহযোগিতা করেন।
নিকলী উপজেলার দামপাড়া ও নোয়াপাড়া সংলগ্ন হাওরে পরিচালিত অভিযানে ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১ হাজার মিটার এবং মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অভিযানে নিকলী থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের কর্মচারীরা সহযোগিতা করেন।
অন্যদিকে ভৈরব উপজেলার মেঘনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের মরা অংশে অভিযান চালিয়ে ২৫টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৫শ’ মিটার এবং আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা। অভিযানে সহযোগিতা করে ভৈরব নৌ পুলিশ।
পরে জব্দ করা সব চায়না দুয়ারি জাল জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বাসস’কে বলেন, মাছের প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাওর ও নদীতে অবাধে মাছের বিচরণ এবং প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।