শিরোনাম

খুলনা, ২০ মে, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আজ (বুধবার) ভোর ৬টায় হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। এসময় রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে এবং উদ্ধারকাজ করার সময় আহত হন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান; সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুন লাগার খবরে রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গেলে অনেকে আহত হন। তবে, চিকিৎসাধীন রোগীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার বাসস’কে জানান, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে ইমার্জেন্সি ওটির পাশের পোস্ট অপারেটিভ রুম বা স্টোর রুমের যেকোন একটিতে শর্টসার্কিট হয়ে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে এসির আউটডোর এবং পরে অক্সিজেন আউটডোরে আগুন লেগে যায়। ফলে দরজা বিস্ফোরিত হয়ে ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলে সেখান থেকে মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে, আইসিইউতে ভর্তি কিছু রোগীকেও ওই পথ দিয়ে বের করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পাই। সঙ্গে সঙ্গে বয়রা থেকে ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে আরও ৭টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও জানান, চার তলা ভবনটির তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমেই আমরা ব্যালকনি থেকে ৪-৫ জনকে উদ্ধার করি। তবে আগুন নেভানো শেষে হতাহত আর কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, আগুনের কারণে হাসাপাতালে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যহত হওয়ায় এই মুহুর্তে সকল ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে অপারেশন ও চিকিৎসা শুরু করার জন্য ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছে, তাদের তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।