শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৫ মে ২০২৬(বাসস): হামে আক্রান্ত পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না বাবা সুমন জলদাস। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আজ শুক্রবার (১৫ মে) হাসপাতালের সব বকেয়া বিল মওকুফ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা সুমন জলদাস ২০ দিন ধরে অসুস্থ কন্যা জয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না সুমন।
শুক্রবার সকালে নগরীর জিইসি এলাকার এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া শিশু জয়া দাসকে দেখতে যান জেলা প্রশাসক। এ সময় হাসপাতালের চেয়ারম্যান লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলী ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দারিদ্র্যের কারণে হাসপাতালে বিল পরিশোধ করতে পারছেন না হাম আক্রান্ত শিশু জয়া’র বাবা-মা। এমন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও মানবিক উদ্যোগে সাড়া দেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার পর হাসপাতালের মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০২ টাকার বিলের মধ্যে বকেয়া ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩০২ টাকা মওকুফ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমরা আনন্দিত। জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় একটি অসহায় পরিবার বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছে।
ডিসি মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জয়া দাসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি জেলে পরিবারের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সহায়তার কথাও জানান।
শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর সুমন জলদাস জানান, ‘আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেয়েছি, এর চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না। জেলা প্রশাসক রাত থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার মেয়ে এখন সুস্থ। হাসপাতালকেও ধন্যবাদ। মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছি। দুজনই সুস্থ আছে।’