শিরোনাম

কক্সবাজার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : কক্সবাজারের রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে মা ও তার শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন, ছেমন আরা (২৫) ও তার তিন বছর বয়সী মেয়ে আসমা বিবি। তারা মো. একরাম মিয়ার স্ত্রী ও সন্তান।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন বাসস’কে জানিয়েছেন, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। প্রথমে সৈয়দ কলোনীর কয়েকটি বসতঘরের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি জানান, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী ছেমন আরা। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশু সন্তান। এ সময় দু’টি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়ার ৬ বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আছমা বিবি ও তার ছোট কন্যা হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিগুলো ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।
তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন বাসস’কে জানিয়েছেন, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে প্রবেশ করানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদের দাবি, বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণী ও মানুষের সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ বাসস’কে বলেছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে উপপরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা দায়ের করা হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।