শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জ, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : গুনগুন করে গান গাইছেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার। হাতে তুলি, আর পটে ফুটে উঠছে চিরায়ত বাংলার রূপ। তার ঠিক পাশেই একদল শিক্ষার্থী ব্যস্ত কাগজের মুখোশ তৈরিতে। কেউ সরাচিত্রের শেষ আঁচড় দিচ্ছেন, কেউবা ব্যস্ত বাঁশ আর কাগজ দিয়ে বড় বড় মোটিফ তৈরিতে। নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রতিটি কক্ষ আর প্রাঙ্গণ এখন যেন এক শিল্পশালা। উদ্দেশ্য একটাই, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নেয়া।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জে শুরু হয়েছে উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে এবারের প্রস্তুতিতে আনন্দের পাশাপাশি মিশে আছে আগামীর জন্য এক ধরনের প্রার্থনা ও শুভকামনা।
নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট ঘুরে দেখা যায়, দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন পহেলা বৈশাখের অনুষঙ্গ। শিক্ষকরাও সমানতালে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এবারের শোভাযাত্রার নাম দেয়া হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শিল্পী শামসুল আলম আজাদ বলেন, ‘আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে বাংলা বর্ষের সরাসরি টান হয়তো আগের মতো নেই, কিন্তু পহেলা বৈশাখে আমরা শেকড়ের এক টান অনুভব করি। দেশ এখন এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমরা চাই মঙ্গল আসুক। আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন যেন স্বাভাবিক ও সুস্থ হয়-এটাই এবারের বৈশাখের প্রার্থনা।’
চার দশকের বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। সাংস্কৃতিক জোটের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৪ দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করেছে। পহেলা বৈশাখ থেকে ৪ বৈশাখ পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এতে গান, নাটক, আবৃত্তি ও নাচের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির নানা দিক তুলে ধরা হবে। সাংস্কৃতিক জোটের কর্মীরা জানান, এই উৎসব কেবল উদযাপনের নয়, বরং সংস্কৃতির মাধ্যমে সম্প্রীতি রক্ষার এক আন্দোলন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখের সকালে চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ যেন মিলেমিশে একটি সুন্দর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করতে পারেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করবে। পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।’
নারায়ণগঞ্জের চারুকলা থেকে শুরু করে রাজপথ, সবখানেই এখন বৈশাখের আগমনী সুর। জীবনের নানা টানাপোড়েন ছাপিয়ে মানুষ এখন মুখিয়ে আছে নতুন বছরে এক নতুন ভোরের প্রত্যাশায়।