বাসস
  ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫১

আশাশুনির বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে বুধহাটা বাজার

আশাশুনির বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন ।ছবি: বাসস

\ মো. আসাদুজ্জামান \

সাতক্ষীরা, ১ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : জেলার আশাশুনি উপজেলার বেতনা নদীর বেঁড়িবাধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙনের কবলে হুমকিতে রয়েছে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজার। নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজারসংলগ্ন পূর্ব-দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ধসে পড়েছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নদী খনন ও অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নদীর বাহাদুরপুর অংশে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে থাকলেও সেখানে খনন না করে ভাঙনকবলিত পাড়ে (বুধহাটা বাজার এলাকায়) নদী খনন কাজ করা হয়েছে। ফলে স্রোতের গতিপথ সরাসরি বাজারের দিকে চলে এসেছে। গত কয়েকদিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় নৌযান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি খেয়া নৌকা ঘাটে ভিড়তে গেলে নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়দের দ্রুত সহযোগিতায় শিশুসহ সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, শুধু বালুর বস্তা ফেলে এই বাজার রক্ষা করা সম্ভব নয়। দ্রুত নদীর অন্য পাড়ে জমে থাকা পলি অপসারণ করে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং স্রোতের দিক পরিবর্তনের ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় শত বছরের ঐতিহ্য বুধহাটা বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-২ এর নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহমান তাসকিয়া বাসসকে বলেন, নদী খননের ফলে তোলা মাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেখানে যদি আমাদের কোনো বেড়িবাঁধ থাকে, তাহলে বিষয়টি আমরা দেখব।

স্থানীয় সচেতন মহল এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাউবোর মূল বাঁধ কয়েক যুগ আগেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে পুরোনো মূল বাঁধটি নদী পার হয়ে অন্য পাড়ের বাহাদুরপুর অংশে গিয়ে উঠেছে।

তারা জানান, বর্তমানে যে বাঁধটি বুধহাটা পাড়ে রয়েছে, তা ভাঙতে ভাঙতে পিছু হটে বাজারের মধ্যে এসে পৌঁছেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো বাজার ও জনবসতি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।