শিরোনাম

খুলনা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের কারণে তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় সাম্প্রতিক কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর সরকারের পদক্ষেপে খুলনায় আবারও শুরু হয়েছে জ্বালানি তেল উত্তোলন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আশ্বাসে রোববার দুপুর থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি তেল ডিপো থেকে ট্যাংকলরিতে তেল তোলা শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার পাম্পগুলো থেকে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে খুলনার পেট্রল পাম্পগুলোতে দেখা দেয়া জ্বালানি সঙ্কট ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে।
এরআগে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিমের নেতৃত্বে জ্বালানি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চালু করা রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। এই আশ্বাস পাওয়ার পরই ব্যবসায়ীরা তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার কর্মসূচি স্থগিত করেন।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানান, প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আগের মতো তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং দুপুর থেকেই ডিপোগুলোতে ট্যাংকলরি প্রবেশ শুরু করেছে।
খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন বাসস’কে বলেন, ডিপোগুলো থেকে আগের তুলনায় সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা কর্মসুচি প্রত্যাহার করে আবার তেল উত্তোলন শুরু করেছেন।
এর আগে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে গত ১৪ মার্চ সকাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০টি এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫টি জেলায় জ্বালানি ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রাখেন।
আন্দোলনকারীরা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে ট্যাংকলরি প্রবেশ করতে দেননি। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই খুলনার অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কয়েকটি পেট্রল পাম্প মালিক তেল উত্তোলনের চেষ্টা করলেও শ্রমিকদের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, আজ সোমবার নগরীর কয়েকটি পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তেল উত্তোলন ও সরবরাহ শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, ডিপো থেকে নিয়মিত ও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট তৈরি হবে না। সরকারের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে খুলনা অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।