বাসস
  ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৩৭

হ্যাঁ ভোটকে জিতিয়ে ফ্যাসিষ্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করা হবে : সাদিক কায়েম

রংপুর, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর গনভোটে আমরা দেশবাসী হ্যাঁ ভোটকে জিতিয়ে ভবিষ্যতে আবারো কারো ফ্যাসিষ্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করে দেব।

এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর পরিবারতন্ত্র চলবে না। দুইবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আবার কারো ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার পথ আমরা বন্ধ করে দেব  ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের শাসন আমরা দেখেছি। রাজার ছেলে রাজা হবে এটা আর হবে না। যোগ্যতার ও মেধার ভিত্তিতে নেতা তৈরী হবে। যার কথা ও কাজে মিল থাকবে। আর এজন্য আমাদের দেশবাসীকে হ্যাঁ ভোটকে জেতাতে হবে।

তিনি সোমবার রাতে রংপুর নগরীর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)'র গেটে শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ আয়োজিত হ্যাঁ ভোটের পক্ষে গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সাদিক কায়েম বলেন, জুলাইকে ধারণ করে নির্বাচনের শুরু থেকেই জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দল হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে।

আর একটি দল গত ১৭ বছর জুলুমের শিকার হলো, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলো, তারপরও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জোরে আওয়াজ তুলতে ভয় পাচ্ছে। অনেক বলার পর সেই দলের মহান নেতা এই রংপুরে এসে হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বলেছে।

তারা বড় বড় সমাবেশ করতেছে, লক্ষ কোটি লিফলেট, হাজার হাজার ব্যানার ফেষ্টুন তৈরী করছে, কিন্তু সেখানে কোথায় হ্যাঁ কথা লিখছে না।

তাদের তৃণমুল এখনও হ্যাঁ এর বিপক্ষে। এরকম ডাবল স্টান্ডাটগিরি চলবে না। জুলাইকে ধারণ করলে, আবু সাঈদকে ধারণ করলে, নতুন বাংলাদেশ ধারণ করলে এবং নতুন চার কোটি তরুণ ভোটারকে ধারণ করলে হ্যাঁ এর পক্ষে থাকার বিষয়টি পরিস্কার করতে হবে।

সাদিক কায়েম বলেন, একটি ভোট হবে গণভোটের পক্ষে, যেখানে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করব।

এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো আজাদি, এই ‘হ্যাঁ’ মানে হলো ইনসাফ। এই ‘হ্যাঁ’ মানে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেয়া।

তিনি বলেন, "ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেব। দ্বিতীয় ভোটটি দিতে হবে ইনসাফের পক্ষে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণের জন্য আমাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।"

তিনি আরো বলেন, এই জুলাইয়ের কারণে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে, জুলাইয়ের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হয়েছে। অথচ তারা এখন বলছে, কোন সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারবেনা।

আমরাও বলতে চাই এই ধরণের সুশীলগিরি এই স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এই ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেটা আমাদের কাছে পরিস্কার করতে হবে। এখনও দিল্লীর দালালরা এই স্বাধীন দেশে বসে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। কিন্তু আমরা সেটা করতে দেবো না।

তাই নির্বাচন কমিশনকে বলবো, আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পরিবর্তন করবেন সেই আহবান জানাচ্ছি। দেশের সকল নাগরিক ও সরকারের সকলের পক্ষে এই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে হবে। হ্যাঁ ভোটকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করতে হবে।

এসময় ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু-র নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।