শিরোনাম

\ বিপুল ইসলাম \
লালমনিরহাট, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : মাঘ মাসকে ঘিরে চিরাচরিতভাবে তীব্র শীতের যে প্রত্যাশা থাকে, চলতি বছরে তার কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। মাঘের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও শীতের দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে।
আজ ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। প্রবাদে বলা হয়—‘পৌষের শীত মোষের গায়, মাঘের শীতে বাঘ পালায়’। অর্থাৎ এই সময়টিতেই শীতের প্রকোপ সর্বোচ্চ থাকার কথা। কিন্তু কয়েকদিন আগেও যেখানে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন ছিল স্থবির, সেখানে এখন ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে যানবাহন চলাচল, শ্রমজীবী মানুষের কাজকর্ম এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল। তবে বর্তমানে ভোরের কুয়াশা অনেকটাই পাতলা হয়ে এসেছে, সকালেই সূর্যের দেখা মিলছে এবং কনকনে ঠান্ডার অনুভূতিও আগের তুলনায় কমেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষের কথাতেও শীতের তীব্রতা কমে আসার চিত্র স্পষ্ট।
সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের দিনমজুর আমজাদ আলী (৫২) বাসসকে জানান, কয়েকদিন আগে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে ভোরে কাজে বের হওয়া কষ্টকর ছিল। এখন সকাল সাতটার পরই রোদ ওঠে, কাজেও গতি এসেছে।
একই এলাকার বড়বাড়ী ইউনিয়নের দিনমজুর ইলিয়াস আলী (৪০) বলেন, এখন কাজে গিয়ে মোটা শীতের জামা খুলে রাখতে হচ্ছে। কখনো কখনো গরমও লাগছে।
আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভ্যানচালক আজমুল হক (৩০) বাসসকে জানান, ঠান্ডার চাপ কমে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিক সময়েই সকালে কাজে বের হতে পারছেন। তার ধারণা, সামনে শীত আরও কমতে পারে।
কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের অটোচালক ইসমাইল হোসেন (৪০) বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে নিয়মিত রোদ উঠছে, ফলে শীতজনিত ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
এ বিষয়ে রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বাসসকে জানান, আজ সকালে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে মৃদু, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
তিনি আরও জানান, চলতি শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন যত এগোচ্ছে, ঠান্ডার তীব্রতা ধীরে ধীরে কমছে। আপাতত নতুন করে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কোনো আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মাঘ মাসের শুরুতেই শীতের প্রভাব কমে আসায় এ বছর মাঘের চিরচেনা তীব্র শীতের চিত্র কিছুটা ভিন্ন রূপেই ধরা দিচ্ছে। এতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরলেও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন নজর রাখার বিষয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।