বাসস
  ০২ মে ২০২৬, ১০:৫৪

দিনাজপুরে বাসমতি ধানের পরীক্ষামূলক চাষে সাফল্য 

ফুলবাড়ীতে বাসমতিসহ ১২টি উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্য অজিত হয়েছে। ছবি: বাসস

\ রুস্তম আলী মন্ডল \

দিনাজপুর  ২ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাণবঙ্গ মিলার্স এর উদ্যোগে বাসমতিসহ ১২টি উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্য অজিত হয়েছে।

তাদের উৎপাদিত ১২টি উন্নত জাতের ধান পরীক্ষামূলকভাবে পাকিস্তানি বাসমতি, ব্লাক রাইসসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের ধান চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসস’কে জানান, সম্প্রতি তিনি জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাণবঙ্গ মিলার্স এর উদ্যোগে বাসমতিসহ ১২টি উন্নত জাতের ধান চাষ ক্ষেতের উৎপাদিত ফসল  পরিদর্শন করেছেন। তিনি উদ্যোক্তা কর্তৃপক্ষের চাষকৃত উন্নত জাতের ধানের ফসল ভাল হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

উন্নত জাতের ধান চাষ উদ্যোক্তা প্রাণবঙ্গ মিলার্স কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত কৃষিবিদ মো. নওশাদ হোসেন জানান, বিদেশ থেকে বাসমতি চাল আমদানি না করে, দেশেই সেই মানের দীর্ঘ-সরু ও পুষ্টি গুণ সম্পন্ন ব্লাক রাইস এবং সুগন্ধি কাটারী ধান উৎপাদনের মাধ্যমে চালের বাজারে নতুন বিপ্লব আনতে তাদের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন। এই প্রচেষ্টা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা এমন একটি ‘ভ্যালু চেইন’ তৈরির চেষ্টা করছেন, যেখানে কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের প্রকৃত ও সঠিক মূল্য পাবেন। সেই সাথে ভোক্তারা দেশে সহজেই পাবেন বিশ্বমানের বাসমতি ও স্বাস্থ্যকর ব্লাক রাইস চাল।’

সরেজমিনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী ১২টি উন্নত জাতের ধান চাষ ফসলের ক্ষেতে দেখা যায়,সফলভাবে এসব ধান অর্জিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাণবঙ্গ মিলার্স এর কৃষিবিদ বাসস’কে জানান , বাসমতী (পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান) বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সুগন্ধি চাল। ব্লাক রাইস (ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া) ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ চাল। এই চালের রঙ গাঢ় বেগুনি-কালো এবং খেতে বাদামের মতো সুস্বাদু। স্থানীয় সুগন্ধি দেশীয় উৎপাদিত কাটারী ধান আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় প্রিমিয়াম চিকন চাল। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-ধান-৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪, ও বাংলামতি এবং  দু’টি মোটা সুগন্ধি ধানের জাত আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এসব ধানের বীজ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন। ফলন ও মান সন্তোষজনক হলে পরবর্তীতে কৃষক পর্যায়ে এসব বীজ সরবরাহ করে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।

উদ্যোক্তা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির বাসমতি ও লম্বা-সরু চালের যে ঘাটতি রয়েছে এবং উচ্চ মূল্যের ধানের চাহিদা বাড়ছে, তা পূরণে প্রাণবঙ্গ মিলার্স লিমিটেডের গবেষণা কার্য্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জলবায়ুতে মানানসই বাসমতি জাত ধান চাষ আবাদের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে বাসমতি জাতের ধান আমদানি নির্ভর হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এর উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমে আসবে।

দিনাজপুর হাবিপ্রবি কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড.এটিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় এসব উন্নত জাতের ধানের ফলন উৎপাদন সফল হলে দেশের ধান উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে সুগন্ধি ও রপ্তানিযোগ্য ধান উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করছেন। পর্যায়ক্রমে কৃষি বিভাগের নতুন উদ্ভবনে আবিষ্কৃত বিষয়গুলো এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে এসব উন্নত জাতের ধানগুলো দেশের মাটিতেই চাষ যোগ্য হবে বলে তিনি আশা করছেন।

তাদের চাষ করা ১২টি উন্নত জাতের ধান ক্ষেত প্রদর্শনী পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল, উপজেলা কৃষিবিদ মো. গফ্ফার আল-হাদী, ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ, প্রাণ কোম্পানির মহা-ব্যবস্থাপক জাকারিয়া হোসেন, কৃষিবিদ নওশাদ হোসেন, আকিনুজ্জামান, ধীমান রায়, রোমানুর রহমান, উজ্জল খলিফা, রায়হানুলসহ প্রমুখ।