BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ১৬ মে ২০২২, ১৭:০৬

সিলেটে সবগুলো নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

সিলেট, ১৬ মে, ২০২২ (বাসস) : সিলেটে সবগুলো নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার অন্তত ৮ উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। 
সিলেট নগরেও ঢুকে পড়ছে পানি। গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি উপজেলা সদরের যোগাযোগ সড়কও তলিয়ে যাচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সবগুলো নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও সারী নদীর পানি চার পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদনদীতে পানি বাড়ছে এবং বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটে গতকাল রোববার থেকে বৃষ্টি কমেছে। তবে, উজানের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রবল বৃষ্টির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সিলেট অঞ্চলে নদনদীর পানি বাড়ছে।
পানি বাড়ায় এরই মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, সদর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বিশ^নাথ, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাটে উপজেলা সদরের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১০৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। পাঁচ উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এসব এলাকায় বরাদ্দও বেশি দেয়া হয়েছে। 
সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা, হাটখোলা, বাদাঘাট, শিবেরবাজার, হাটখোলা, টুকেরবাজার, সালুটিকরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন, ফুলবাড়ি ইউনিয়ন, বাদেশ্বর ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। 
এদিকে, সুনামগঞ্জেও বন্যার পানি বাড়ছে। সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাইসহ বিভিন্ন উপজেলায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে
সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, এবার সিলেট জেলায় তিন হাজারের বেশি বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে গতকাল রোববার পর্যন্ত বন্যার পানিতে ৪৭৭ হেক্টর বীজতলা তলিয়ে যায়। আজ আরও বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বোরো ধান নিমজ্জিত হয়েছে ৮৫০ হেক্টর। 
সুনামগঞ্জে পানি বাড়লেও বীজতলা ডোবার খবর পাওয়া যায়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) বিমল চন্দ্র সোম জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে সুনামগঞ্জ জেলায় বোরো ধান ডুবেছে ২০ হেক্টর। নন হাওরে সুনামগঞ্জে ৫৭ হাজার ৫৭৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। 
আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগে এখন পর্যন্ত ৮৮ শতাংশ কাটা হয়েছে। কৃষকরা দ্রুত ধান কাটছেন। পাকা ধান ডুবলেও ক্ষতির শঙ্কা কম।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘন্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসাংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কতিপয় স্থানে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে, বন্যা পরিস্থিতির আশা দেখছে না পাউবো।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন