বাসস
  ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচ দেখতে তিতাস পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবি : বাসস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ দুই বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। 

নৌকা বাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা তিতাস পাড়ে ভিড় জমান। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নদীর দুই তীর লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

দর্শনার্থী ইতালি প্রবাসী রনি আলম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব। আমি ঢাকায় ছিলাম। বাইচ দেখতে আজ সকালে অনেক কষ্ট করে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছি।

আরেক দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ উৎসবমুখর। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বাসসকে বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বাসসকে বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটা সাংস্কৃতিক রাজধানী। নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ হোক। আমরা আশা করি আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।

প্রতিযোগিতায় প্রথমস্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাবন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়নি।