শিরোনাম
নওগাঁ, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): চলতি মৌসুমে সময়মত বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের অধিক ফলন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় খরিপ-১ মৌসুমে উৎপাদিত পাটের আশাতীত বাজারমূল্য পেয়ে জেলার কৃষকরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত।
বিগত ৫ বছর ধারাবাহিকভাবে পাট চাষের পরিমাণ কমে গেলেও এ বছর ভালো দাম, সরকারি প্রণোদনা পাওয়া এবং সর্বোপরি পাটের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহারসহ সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে আগামী মৌসুমে কৃষকরা পাট চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২১-২০২২ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৫,৭২৫ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ১৫,৫৬০ মেট্রিক টন পাট। ২০২২-২০২৩ মৌসুমে পাটের আবাদ হয়েছিল ৫,৩৩০ হেক্টর যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ১৪,৬৫০ মেট্রিক টন। ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৪,৫৬০ হেক্টর জমিতে যা থেকে উৎপাদিত হয়েছিলো ১২,৭১০ মেট্রিক টন। ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৩,৫৫০ হেক্টর জমিতে। যা থেকে উৎপাদিত হয়েছিলো ৯,৯৬৫ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩,১৭০ হেক্টর জমিতে। সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮,৯৪০ মেট্রিক টন পাট।
ইতোমধ্যে জেলার কৃষকরা জমি থেকে পাট কেটে জাগ দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে শুকিয়ে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা সন্তুষ্ট।
জেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতি মণ শুকনা পাট ৩ হাজার ৮শ’ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘায় পাটের আবাদ করতে জমি চাষ, বীজ, সার পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেয়া, ধোয়া এবং শুকাতে গড়ে খরচ হয়েছে ১৬ হাজার টাকা থেকে ১৭ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে বিঘা প্রতি নিট লাভ করছেন ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা।
গত ৫-৬ বছরের মধ্যে পাট চাষ করে এ বছরই কৃষকরা ভালো লাভ করছেন। পাট যে সোনালি আঁশ, এ মর্মার্থ আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক পাট ফলনের মাধ্যমে।
বদলগাছী উপজেলার কাষ্টডোব গ্রামের কৃষক মোবারক আলী শঙ্কা নিয়ে এ বছর ১ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন।
তিনি বাসস’কে বলেন, সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। তার এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছে ১২ মণ। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার নিট লাভ হয়েছে ৩১ হাজার টাকা।
মান্দা উপজেলার বড় বেলালদহ গ্রামের আজিমুদ্দিন কাজী ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি মোট পাট পেয়েছেন ২২ মণ। ৪ হাজার টাকা দর হিসেবে তার পাটের মোট বাজারমূল্য ৮৮ হাজার টাকা। ২ বিঘা পাটের আবাদ করতে মোট খরচ হয়েছে ৩২ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে তিনি দুই বিঘা জমিতে নিট মুনাফা করেছেন ৫৬ হাজার টাকা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮শ’ জন কৃষকের প্রত্যককে ২৩০ টাকা মূল্যের ১ কেজি করে বীজ, ৯৫ টাকা মূল্যের ৫ কেজি ডিএপি সার, ৯০ টাকা মূল্যের ৫ কেজি এমওপি সার, পরিবহন বাবদ নগদ ১৬.৫০ টাকা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৪৪২.৫০ টাকার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সেই হিসেবে চলতি মওসুমে পাট চাষিদের ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁ’র উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বাসস’কে বলেন, কৃষি বিভাগ পাটকে আবার সোনালি আঁশ হিসেবে সুপরিচিত করতে পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ প্রান্তিক চাষিদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৮শ’ জন পাটচাষিকে সরকারি কৃষি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সারসহ পরিবহন খরচ ও আনুষাঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।