শিরোনাম

দিনাজপুর, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): জেলার কাহারোল উপজেলায় গত এক বছর কোনো বাল্যবিবাহ হয়নি। প্রশাসন, এনজিও ওয়ার্ল্ড ভিশন ও স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে ৯টি আয়োজিত বাল্যবিবাহ বন্ধ করা করা সম্ভব হয়েছে।
একইসঙ্গে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া মুক্ত এবং বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত উপজেলা ঘোষণা উদ্যোগের প্রথম বার্ষিকী সফলভাবে উদযাপন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা প্রশাসন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বিশেষ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হয়।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের সুরক্ষা এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জেলার কাহারোল উপজেলাকে একটি আদর্শ ও শিশু-বান্ধব উপজেলা হিসেবে টিকিয়ে রাখতে আমাদের অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। গত এক বছর এই উপজেলায় কোনো বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়নি এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যালয় হতে শিশু ঝরে পড়া নিরসনে আদর্শ জেলার কাহারোল উপজেলা ঘোষণা, বাল্যবিবাহ ও শিশু শ্রম মুক্ত উপজেলা ঘোষণা ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ কাহারোল এপি’র ম্যানেজার লাভলী বিশ্বাস লাকির সভাপতিত্বে উদযাপন করা হয়।
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোকলেদা খাতুন মীম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইশতিয়াক আহমেদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশনস চন্দন জাকারিয়াস গমেজ, ডিরেক্টর অপারেশনস এন্ড টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম হানা দারিং ও বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ফিল্ড অপারেশনস ডেপুটি ডিরেক্টর রাজু উইলিয়াম রোজারিও।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন এবং ফটো গ্যালারি ও ফলক পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি মো. মনজুরুল ইসলাম এমপিসহ অন্যরা। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুবিধা ভোগী শিশুরা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া সঙ্গীতা রায়, শিশুশ্রম থেকে মুক্ত হওয়া পলি রায় এবং স্কুল হতে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া সুন্দরপুর ইউনিয়নের এক শিশুর অভিভাবক তাদের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তবচিত্র সবার সামনে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিনিধিরা জানান, বিগত কয়েক বছরে সমন্বিত উদ্যোগের ফলে কাহারোল উপজেলায় ১৪৯ জন শিশুকে, শিশুশ্রম মুক্ত করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, ৯টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয় এবং ১১৫ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে পুনরায় বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ৬টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৮৩৬ জন ঝুকিপূর্ণ শিশুর তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত কাউন্সেলিং নিশ্চিত করা হচ্ছে।