বাসস
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৭

সুন্দরবনে নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ

ছবি : বাসস

বাগেরহাট, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : সুন্দরবনের কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় ডাকাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য বাসসকে জানান।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। 

এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান।

এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা এবং ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে আরও রয়েছে চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬) রয়েছেন। 

অন্যরা হলেন—সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭), আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫), শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।

তাদের মধ্যে খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলার সাতজন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চারজন এবং বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার একজন বাসিন্দা রয়েছেন।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের অস্ত্র ত্যাগ করে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সরকারের নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে।