শিরোনাম

বাগেরহাট, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ড দেওয়ার কর্মসূচিতে বাগেরহাটে প্রথম দফায় ৯ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের ১৭ তারিখ কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্ভোধন করবেন।
বিএনপি সরকারের আমলে ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে জেলায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮ জন কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন।
বিএনপি’র নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটে ৯টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য শনাক্ত করা হয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের সুবিধার লক্ষ্যে ৯ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ব্লকের (এরিয়া) জরিপের কাজ চলমান রয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অপুর্ব লাল সরকার বাসসকে জানান, প্রথম দফায় তাদের টার্গেট রয়েছে ৩১ হাজার ৩৭৪ জন। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ হলেও বাকিটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে, যার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রথম ব্লকের জরিপের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর, চুলকাঠি ও খানপুর। ফকিরহাট উপজেলার দেয়াপাড়া, কাঠালতলা ও সিংগাতী। মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা, শাসন ও কাচনা। রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ, গিলাতলা, বাশতলী। কচুয়া উপজেলার বাধাল, সাংদিয়া, পিংগরিয়া। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও খাওলিয়া। শরনখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা, গোলবুনিয়া, নলবুনিয়া। মোংলা উপজেলার চিলা, জয়মনি, হলদিবুনিয়া। চিতলমারী উপজেলার চরডাকাতিয়া ও চরবানিয়ারী।
কৃষি দপ্তর আরও জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির সদস্যরা ৯ টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য বাছাই করেছেন। এরইমধ্যে এ কমিটির সদস্যরা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে তালিকা ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
কার্ডপ্রাপ্ত কৃষকরা জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংক থেকে বার্ষিক অনুদানের অর্থ পাবেন। বছরে আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন প্রত্যেক কৃষক।
কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সেচ, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, রোগ বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি পণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষি বীমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি-প্রণোদনা, ঋণ ও কৃষি উপকরণ পাবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মোতাহার হোসেন বাসসকে বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকরা কার্ড পাবেন। এটি ডেবিট কার্ড হিসেবে গণ্য হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকরা আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বাসসকে জানান, চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্ভোধন করবেন। ওইদিন অনলাইনের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় অঞ্চল রামপাল উপজেলা যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কৃষকের জীবন ও জীবিকা প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক ঝুঁকির মধ্যেও জেলার কৃষকরা ধান, সবজি, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে আসছেন। ফলে কৃষকদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি উপকরণ, রোগবালাই দমনে ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।