বাসস
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো কোন অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না : উপাচার্য

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। ছবি : বাসস

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমন এক জায়গা, যেখানে কখনো কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হয় না। গায়ের জোরে এখানে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৫২, ১৯৭০, ১৯৭১ কিংবা ১৯৯০ সবসময়ই ঢাবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাবি উপাচার্য বলেন, আমরা ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩শে আগস্ট দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছি। ২০০৭ ও ২০০৮ সাল আমাদের কাছে অত্যন্ত বিভীষিকাময় ছিল। তৎকালীন মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের আমল হিসেবে পরিচিত সেই সময়ে, ২০০৭ সালের ২০শে আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি বলেন, আমরা সেই সময়ের ভয়াবহ দিনগুলো এখনো ভুলিনি। আমি তখন শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একজন মেজর লেভেলের অফিসার আমার অফিসে এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখান এবং এক প্রকার জোর করেই ধরে নিয়ে যান। শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত অপমানজনক।

উপাচার্য আরও বলেন, তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া, যা ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা চেয়েছিল খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে উপাচার্য বলেন, আমরা ২০২৪ সালেও দেখেছি কীভাবে অগণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়াকে যখন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি আপসহীনভাবে বলেছিলেন ‘এই দেশ ছাড়া আমার আর কোনো জায়গা নেই, মরতে হলে এই দেশেই মরব।’ তার এই দৃঢ়তার কারণেই তিনি ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ উপাধি পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে বলেন, তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে, এমনকি তার কোমড় পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আরাফাত রহমান কোকোকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগও রয়েছে। এত নির্যাতনের পরেও তারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সত্যের জয় সবসময়ই হয়। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সেই কালো এজেন্ডা সফল হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আজকের একটি পত্রিকার রিপোর্টে দেখলাম বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে ৫৪%, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ৬৬%। এতেই বোঝা যায় দেশের মানুষ কাকে ভালোবাসে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও কেউ সফল হবে না।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আল মোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।