বাসস
  ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৫

বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, আদর্শ, চেতনা ও নৈতিক রাজনীতির প্রতীক : রিজভী

মঙ্গলবার রাজধানীর এজিবি কলোনী মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন মো. রুহুল কবির রিজভী। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বেগম খালেদা জিয়া এদেশে গণতন্ত্রের মূর্তিমান প্রতীক, আদর্শের প্রতীক, চেতনার প্রতীক এবং রাজনীতিতে উন্নত নৈতিকতার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যত বেশি স্মরণ করা হবে এবং তাঁর জীবনাচরণ ও জীবনাদর্শ যত বেশি চর্চা ও অধ্যয়ন করা হবে, ততই নিজেদের মধ্যে শক্তি ও প্রেরণা পাওয়া যাবে। 

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর এজিবি কলোনী মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের শোক, সংকট ও বেদনায় যে মানুষটি হিমালয় পর্বতের মতো অখণ্ড ও ভারী এক প্রেরণার উৎসস্থল ছিলেন, তিনি হচ্ছেন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁকে আমাদের সকলেরই চলার পথে ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্মরণ করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, তাঁকে একটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল, যেখানে ধুলোবালি উড়ত এবং ইট খুলে পড়ত। সেখানে তাঁকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বেগম খালেদা জিয়াকে এমন জায়গায় বন্দি রাখার উদ্দেশ্য ছিল, তিনি যেন দেশ ছেড়ে চলে যান। বাংলাদেশকে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়া হয়েছিল, যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে বা প্রতিবাদ করতে না পারে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং তাঁর ওপর চালানো নিপীড়ন-নির্যাতন সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি করেছিল, তারই পরিণতি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেখা গেছে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে না গিয়ে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার প্রদর্শিত সংগ্রাম, আন্দোলন, আদর্শ ও অঙ্গীকারের পতাকা নেতাকর্মীদের বহন করে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা বলেন, তাঁর সুযোগ্য পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই পতাকা ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গরিব পরিবারের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, জনগণ ও জনগণের স্বার্থকে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। নারীদের শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত উপবৃত্তি চালু করেছিলেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ছয় মাসে আড়াই কোটিরও বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ফেনী-০১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

এছাড়া দোয়া মাহফিলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।