বাসস
  ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২২
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৭

বিএনপির কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে ছাড় নয় : প্রতিমন্ত্রী হাবিব

শনিবার রাজধানীর শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির মাঠে বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সড়ক-সেতু ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপির কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

তিনি বলেন, মানুষের বা এলাকার ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ-সবুজবাগ এলাকার শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিএনপির কেউ এসব অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যাকে ধরতে হয়, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবেন না। সে যেই হোক, তাকে ধরবেন, চালান দিয়ে দেবেন। আমরা তার শাস্তি চাই।’

হাবিবুর রশিদ বলেন, শুধু প্রশাসনকে দোষারোপ করলে হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোকেও এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের তিনি সতর্ক করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। কোনো নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে তাদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই মানুষের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও দাবিও বেশি। এসব দাবি স্বাভাবিক। মানুষের দাবিগুলো পূরণে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর মানিকনগরের একটি সড়কের টেন্ডার হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। ধলপুর-মানিকনগর থেকে ধলপুর মুগদা হাসপাতাল এবং হাসপাতালের পাশের সড়কের কাজও শুরু হয়েছে। বাসাবো-মাদারটেক সড়কের কাজও চলছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই তিনটি কাজই কিন্তু চলমান রয়েছে। যে দাবিগুলো মানুষ করছে, প্রতিটি কাজেই কিন্তু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বর্তমানে রয়েছে, চলমান রয়েছে।’

ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালামের উদ্যোগের প্রশংসা করে হাবিবুর রশিদ বলেন, সিটি কর্পোরেশনের বাজেট স্বল্পতা রয়েছে। তারপরও সালাম ভাই এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। তারা ভালোভাবে রাস্তায় চলাচল করতে চায়, রাস্তার বাতি চায় এবং সঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ চায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্জ্য নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কেউ গাফিলতি করলে বা অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে ডিএসসিসি প্রশাসককে আইনগত ও সিটি কর্পোরেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বর্তমান সরকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি রয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু পবন দাস ও সাধারণ সম্পাদক বাবু গুরু দাসসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।