শিরোনাম

সিলেট, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানিয়েছেন।
কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ শনিবার এ কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে সাতজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে চার বছর বয়সি এক শিশু এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন গুরুতর একজনকে ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ ছাড়া নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দুর্ঘটনার সময় মহাসড়কটি ফাঁকা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া গতি অথবা গাড়ি চালানোর সময় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক ধারণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সম্ভাব্য দায় নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্বের শিকার ব্যক্তিদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের দেখতে শনিবার সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।