বাসস
  ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২২:১২

চট্টগ্রামে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন’ শীর্ষক সেমিনারে শান্তি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত। ছবিঃবাসস

চট্টগ্রাম, ৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের উদ্যোগে ‘নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক আইন: বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং টেকসই সমাধান’ শীর্ষক সেমিনার হয়েছে।

আজ (শনিবার) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের সমন্বয়ক মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এম এ আমিন ও মোনতাহিনা জান্নাত স্বর্ণা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী। 

প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাঠশালা সিএইচটি রিসার্চ সেলের উপদেষ্টা তৌহিদুল ইসলাম।

ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভৌগোলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এ অঞ্চলের শান্তি, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইতিহাস, জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে বাস্তবতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, ‘উপজাতি’ ও ‘আদিবাসী’ শব্দ দুটি সমার্থক নয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন-১০৭ ও ১৬৯-এ উপজাতি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়ে পৃথক সংজ্ঞা রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের চুক্তির কারণে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠী শিক্ষা, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতে চুক্তিটির বিভিন্ন দিক পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিতে তথ্যভিত্তিক গবেষণা, দায়িত্বশীল আলোচনা এবং সব জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।