শিরোনাম

পটুয়াখালী, ৮ আগস্ট ২০২৬ (বাসস): প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পুনরায় সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম চালু হয়েছে । এতে উপকূলীয় এলাকার গর্ভবতী নারী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ফিতা কেটে হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ।
এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারসহ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার গর্ভবতী নারীদের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে একদিকে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেত, অন্যদিকে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের রোগীদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
এখন থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কলাপাড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালেই সিজারিয়ান অপারেশন করা যাবে। এতে স্বল্প আয়ের পরিবারের গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন চালু হওয়ায় উপকূলীয় জনপদের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি মায়েদের জন্য এ সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জরুরি মুহূর্তে দূরের বেসরকারি হাসপাতালে রোগী নেওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। কলাপাড়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালুর ফলে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আরও গতি আসবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখার পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের প্রসূতি ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।