বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫২

সমন্বিত, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে: তিতুমীর

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। 

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল একটি ভাতা কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টার কন্টিন্টোল হোটেলে ‘বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধিকে ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে আরও বিস্তৃত করতে পারে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক গ্রোথ সেন্টার (আইজিসি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের মেয়াদ শেষ হলেও দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন কর্মসূচির পরিবর্তে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা, সুবিধাভোগী নির্বাচনে ত্রুটি, কর্মসূচির সমন্বয়হীনতা এবং সহায়তার প্রকৃত মূল্য কমে যাওয়ার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দূর না করলে নতুন কর্মসূচি চালু করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি সরকার ব্যয় হিসেবে নয়, বরং মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে। এই উদ্যোগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এক নাগরিক, এক কার্ড’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডার একত্র করা নয়; বরং সেগুলোর মধ্যে নির্ভুল ও নিরাপদ তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। 

কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকার, রাজস্বসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ করবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরস্পরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।

সুবিধাভোগী নির্বাচন আরও নির্ভুল করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় হালনাগাদ দারিদ্র্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ভবিষ্যতে পরিবারভিত্তিক সহায়তার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, মৌসুমি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব-সংক্রান্ত সহায়তাকেও একই সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বাজেট থেকেই একটি দক্ষ ও সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ নয়, এটি একটি সামাজিক চুক্তি প্রতিষ্ঠার অংশ। তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের (আইজিসি) কান্ট্রি ইকোনমিস্ট আমিনুল আমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক অতনু রব্বানী প্রমুখ।