শিরোনাম

ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার এদেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে এবং ‘আয়নাঘর’ ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচটি মাসে আমরা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। তিনি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
এছাড়াও, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে এবং সুফল পেয়েছে।
নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।’
তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে; তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেন নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সুখী-সমৃদ্ধ দেশ পায়।
সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের সকল সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই হবে সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।’
তিনি দেশে একটি টেকসই ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।