শিরোনাম

নীলফামারী, ৫ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় বিপৎসীমা অতিক্রমের পর কমেছে তিস্তার পানি। আজ বুধবার বিকেল ৪টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলার ডালিয়া পানি উন্নয় বোর্ড সূত্র জানায়, টানা ভারী বর্ষণে বুধবার তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিন জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার (২৪ ঘণ্টায়)।
এরপর থেকে পানি কমতে শুরু করলে বেলা ১২টায় বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার, দুপুর ২টায় ২ সেন্টিমিটার, বিকেল ৩টায় ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিকেল ৪টায় বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫টি চর ও গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বাড়ি ঘরে তিস্তার পানি প্রবেশ করেনি।
পাউবো কর্তৃপক্ষ জানায়, অতি বৃষ্টির কারণে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিপৎসীমার ওপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ খান বাসসকে বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এখন পানি কমছে, তবে কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় ভাঙন দেখ দিয়েছে। এখনও চরাঞ্চলের কোনো বাড়ি-ঘরে পানি ওঠেনি। কিছু রোপা আমন ক্ষেত তলিয়ে গেলেও পানি কমার সঙ্গে তা জেগে উঠতে শুরু করেছে।
উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সহিদুজ্জামান সরকার বাসসকে বলেন, পানি সকাল থেকে বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা নদীর উজানে ভারতে এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।