বাসস
  ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৩

খুলনায় চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, দম্পতি গ্রেফতার

ছবি : বাসস

খুলনা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুারা অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ মঙ্গলবার তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতাররা হলেন, খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার। 

পিবিআই খুলনার সূত্র জানায়, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কয়েকজনকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। 

তার কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেশী মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জিহাদ ও তার স্ত্রীর কাছে দেন। 

পরে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। বরং কম্বোডিয়ায় নিয়ে ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক কথোপকথনসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। 

এ সময় তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়। একপর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে স্বজনদের সহায়তায় তারা দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর দুই ভুক্তভোগী পৃথকভাবে নগরীর দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় মামলা করেন। মামলা দুটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই খুলনা।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকার আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।

পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বাসসকে বলেন, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। 

তিনি বলেন, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।