শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ৪ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ চ্যানেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রিটেইনিং ওয়ালের ওপর উঠে যাওয়া কন্টেইনার জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’কে রাতভর অভিযান চালিয়ে সফলভাবে সরানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমস্বিত প্রচেষ্টায় মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাসকে সরিয়ে নিরাপদে ‘বি’ (ব্রাভো) অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো হয়েছে।
ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
তিনি বলেন, ‘সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জাহাজটিকে নিরাপদে ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ সচল ও নিরাপদ রয়েছে এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
বন্দর সচিব জানান, গতকাল সোমবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ২০১৭ সালে নির্মিত ১৭০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনারবাহী জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাস কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশের সময় হঠাৎ স্টিয়ারিং বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে জাহাজটি ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদী মোহনার সংলগ্ন রিটেইনিং ওয়ালে আছড়ে পড়ে এবং গ্রাউন্ডেড হয়ে যায়।
চীনের শিকৌ বন্দর থেকে আসা জাহাজটির ড্রাফট ছিল ৯.৫০ মিটার। এতে মোট ১,২৮২ টিইইউএস পণ্য এবং মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট এপিএল (বাংলাদেশ)।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দুর্ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেয় বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারী-২’, ‘কান্ডারী-৪’, ‘কান্ডারী-৬’ ও ‘কান্ডারী-১১’। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট ‘শিবসা’, টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগবোট ‘প্রমত্ত’ অভিযানে যুক্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি অপারেশন। উদ্ধারকারী দল রাতভর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে। প্রয়োজনে জাহাজের ড্রাফট কমাতে সাময়িকভাবে কিছু কন্টেইনার খালাসের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল। তবে সমন্বিত সব সংস্থার প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত জটিলতা ছাড়াই জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
বন্দর সূত্র জানায়, গভীর রাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাহাজটিকে সফলভাবে ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে নেওয়া হয়। পুরো উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দর চ্যানেল নৌ চলাচলের উপযোগী ও সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলট, টাগ ক্রু, নৌ বিভাগের কর্মী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, জাহাজটিকে দ্রুত নিরাপদে ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে স্থানান্তর করাতে পারাই এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য। এতে জাতীয় বাণিজ্যের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনা করে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে জাহাজটি উদ্ধার এবং নিরাপদে স্থানান্তরের ঘটনাকে বন্দরের আপদকালীন প্রস্তুতি ও উচ্চ পেশাদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।