শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): আগামী এক মাসের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো সমাধানের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দেশব্যাপী ডাকা অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতি।
মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতের পর ন্যাম ভবনের অভ্যর্থনা কক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট প্রত্যাহারের এই যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাণিজ্যিক রেজিস্ট্রেশন প্রদান, অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত বাণিজ্যিক নীতিমালার বাস্তবায়ন, সরকারি হাসপাতালে পার্কিং সুবিধা, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সকে টোলমুক্ত রাখা এবং ২৪ ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ মালিকদের একগুচ্ছ যৌক্তিক দাবির বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে এসব দাবি নিষ্পত্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং অচল অবস্থা নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক আয়োজন করা হয়। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করা হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ফুয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে আমরা আগামীকালকের (বুধবার) ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলাম।’
তিনি সারা দেশের সাড়ে সাত হাজার অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিকদের অবিলম্বে গাড়ি চালু রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ঘোষণার পরপরই যেন কোনো রোগী বা মৃতদেহের স্বজনরা কষ্ট না পান, সেদিকে খেয়াল রেখে সকল অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।’
একই সাথে আগামী এক মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স খাতের ন্যায্য দাবিগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।