শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশে বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রকার তদবির বা উৎকোচ ছাড়া মাত্র ১২৫ টাকা খরচে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার নজির নেই। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এ মন্তব্য করেছেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হলে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত। প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।
মীর হেলাল বলেন, কোনো ধরনের তদবির ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে যারা চাকরি পেয়েছেন এবং অভিজ্ঞতার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করেছে। বিগত ২০ বছর ধরে এ দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মে জর্জরিত ছিল। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গুটিকয়েক দুষ্টু লোকের দুর্নীতির বোঝা পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে টানতে হয়। তাই সকলকে দুর্নীতিমুক্ত থেকে পরম সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই জনগণের প্রতি তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করেই সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশে প্রথমবারের মত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন-যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে যান, তারাই এদেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে হবে।
এ সময় বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনা অন্তরে ধারণ করে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে যোগদানকারী নতুন পেশকারদের সততা ও মনোভাব প্রশংসনীয়। সমাজে শ্রেণীবৈষম্য দূর করা, দুঃখী মানুষের কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী নতুন যোগদান করা পেশকারদের নিজ বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সততার সঙ্গে দেশ ও জনকল্যাণে কাজ করার পরামর্শ দেন।
অন্যা বক্তারাও জোর দিয়ে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত সেবা পেতে জনগণ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘সিটিজেন সার্ভিস’ চালু করেছে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা কানুনগো পদে পদোন্নতি প্রদান নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন কর্মচারীদের পক্ষে ফারহানা খাতুন, মো. শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়ায় সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।