শিরোনাম

ঝিনাইদহ, ২৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): জেলার কোটচাঁদপুরে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে লুণ্ঠিত নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকার সুরত আলী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকার সর্দার আলতাফ ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আরিফুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই রাতে কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর-কোটচাঁদপুর সড়কের কুশোকুড়ী মাঠ সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর খেজুর গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয় একদল মুখোশধারী ডাকাত। তারা মোটরসাইকেল আরোহী ও ট্রাকচালকদের ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
এ সময় বেসরকারি গ্রামীণ ব্যাংক মুজিবনগর শাখার ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বাধা দিলে ডাকাত দল তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় একই দিন গ্রামীণ ব্যাংকের মুজিবনগর শাখার ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা পেয়ে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুরত আলী ওরফে সুরত ডাকাতকে গ্রেফতার করে। ওই সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার আলতাফ ওরফে আলতাফ ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য আরিফুলকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সুরত ডাকাত ও আলতাফকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতার আরিফুলকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।