শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ কৃষি, মৎস্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর, আবহাওয়া বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ছুটিবিহীন অবস্থায় সার্বক্ষণিক কাজ করে চলেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় মহানগরসহ জেলার সব মিলিয়ে ১৫টি উপজেলা প্লাবিত হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি বসতবাড়ি আংশিক এবং ৬ হাজার ২০টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল এবং ২৪৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া সবাই ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, জেলায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৯৫ লাখ টাকা নগদ, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ১২০ মেট্রিক টন চাল, ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৫ বান্ডিল ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণের জন্য ৩০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম বন্যা ও ভারী বর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সাপে কাটা প্রতিরোধ ও সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া, শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদে রাখা, ত্রাণ গ্রহণে অবৈধ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা, দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার এড়িয়ে চলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশে বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র তাদের প্রতিদিনের সংবাদ ও বুলেটিনগুলোতে বন্যা, পুনর্বাসন ও ত্রাণের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন বার্তা প্রচার করছে।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ১৮-১৯ জুলাই হালকা থেকে মাঝারি এবং ২০ থেকে ২২ জুলাই মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।