বাসস
  ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৭

কবি নজরুল মুসলিম রেনেসাঁর অনন্য রূপকার : ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু আজ রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন করেন। ছবি : বাসস

রাজশাহী, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের গর্বই নন, তিনি মুসলিম রেনেসাঁর এক অনন্য রূপকার। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। 

নজরুলের রচিত রণসঙ্গীত ‘চল চল চল’ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১১টি দেশে পরিবেশিত হয়। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে এ গান বিশেষভাবে সমাদৃত।

আজ রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নবনির্মিত ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ফলক উন্মোচন করে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মিজানুর রহমান মিনু আশা প্রকাশ করে বলেন, রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার ফলে নজরুল গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।  

তিনি বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর কাজ সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজশাহীতে এনে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

এ সময় তিনি জাতীয় কবির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সুধীজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরে দোয়া ও মোনাজাত শেষে মন্ত্রী ‘নজরুল ভিলেজ’ প্রাঙ্গণে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। 

প্রস্তাবিত এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে যে-কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নজরুলের সাহিত্য, নাটক, গান ও সংস্কৃতিচর্চার আয়োজন করতে পারবেন।

এ ছাড়া নজরুলচর্চাকে সারা বছর ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী মাসের নির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো এই প্রাঙ্গণেই আয়োজনের লক্ষ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’-এর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, কবিতা ও সংগীত নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে ‘নজরুল মঞ্চ’ ও ‘নজরুল কর্নার’ নির্মাণ করা হচ্ছে।