বাসস
  ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৫

গোপালগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতায় ব্যাপক প্রচারণা

ছবি: বাসস

গোপালগঞ্জ, ১৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : অতিবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিস জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, আগাম সতর্কবার্তা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে মাইকিং, সড়ক প্রচার, স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা তথ্য অফিসের প্রচারে বন্যার পূর্বপ্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ, সাপের কামড় এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা আংশিক প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭২টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি মজুদে রয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা এবং ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন।

পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রীর চাহিদাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অগ্রিম পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গোপালগঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পর্যবেক্ষণাধীন নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্টেশনেই পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি এবং আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস জনগণকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে শুধুমাত্র সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। 

পাশাপাশি প্রয়োজন দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।