বাসস
  ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৩
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩৫

মমেক হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে দালাল চক্রের ১৪ জন গ্রেফতার 

ছবি : বাসস

ময়মনসিংহ, ১৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল চত্বর থেকে এক নারীসহ দালাল চক্রের ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখতে র‌্যাব-১৪ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট  আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে অভিযান পরিচালনা  করে তাদের গ্রেফতার করে।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে মোবাইল কোর্ট দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায় তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে। সাজাপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব-১৪, সদর কোম্পানি, ময়মনসিংহের কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু হাসান।

গ্রেফতারকৃত দালাল চক্রের সদস্যরা হলেন, মো. আতিকুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ রফিক আলী (৪৫), ইমরান বাদশা (৩০), আসাদ (৪৭), আহসান উল্লাহ (৩৭), মনির (৪৫), টুটুল আমিন (৪০), আনিস হোসেন (৪০), মো. রানা (৩০), মো. সোহাগ মিয়া (৩১), মনির হোসেন (৩৭), শিলা আক্তার (৫১), জীবন হোসেন (২৮) এবং আক্তার হোসেন (৩১)।

মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, এরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রবেশ পথে অবস্থান নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করত। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করত। পরে উন্নত ও দ্রুত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।

র‌্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ‘শুধু অভিযান চালিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না। 

এসব দালালকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বা অন্যভাবে ছাড়া পেয়ে তারা আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের খপ্পরে পড়ে গ্রামের নিরীহ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অনেক রোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  হচ্ছে। চিকিৎসার অবহেলায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই এদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

দালালচক্রের প্রতারণার শিকার ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলের পায়ে তারকাঁটা লাগার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে আসার পরই দালালের খপ্পরে পড়ি। তারা আমাকে বলে, হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হবে না। পরে বিভিন্ন কথা বলে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে অপারেশনের কথা বলে পর্যায়ক্রমে আমার কাছ থেকে ৩৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়।’

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে। তারা রোগীদের বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যায়। এতে একদিকে রোগীদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

র‌্যাব জানায়, হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় দালালচক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি দালালচক্রের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।