বাসস
  ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:২৮
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৩০

বায়ু দূষণে বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি ২৩ বিলিয়ন ডলার : জাবি গবেষকদের তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশে প্রতি বছর বাতাসে ভাসমান অতিসূক্ষ্ম কণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম ২.৫) দূষণের কারণে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। 

একই সঙ্গে এর ফলে বছরে প্রাক্কলিত অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান। সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন।

বিভাগের ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ’ (সি২এএইচআর) ইউনিটের উদ্যোগে ড. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল ‘পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল শহরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের এই গবেষণায় সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যৌথভাবে কাজ করেছেন। 

গবেষণা দলে ছিলেন ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ রাসেল, আফসানা আক্তার, তারেকুল ইসলাম, মো. জিয়াউল হক, মো. ইকবাল কবির, চুই গুও, জেমস এ. হল, সুজান ই. বার্টিংটন এবং জংবো শি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পিএম২.৫ দূষণের কারণে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বার্ষিক মোট অকাল মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন হৃদরোগে, ৮ হাজার ৩৪৪ জন দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগে এবং ৮১১ জন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।

শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বায়ু দূষণজনিত অকাল মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়, যা বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১১ হাজার ২০২ জন, রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭ জন, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ জন এবং বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জন মানুষ প্রতি বছর মারা যাচ্ছেন।

গবেষণায় আরো দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই ছয়টি শহরেই পিএম২.৫ দূষণজনিত অকাল মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু ঢাকা শহরেই এই সময়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা শহরের বায়ুর মানের চরম অবনতিকে নির্দেশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ু দূষণকে এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। সেইসাথে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক এই বোঝা দিন দিন আরো বাড়বে।’

এ সময় দূষণজনিত মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বায়ুর মান সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, পিএম২.৫ নির্গমন হ্রাস, নগর অঞ্চলের বায়ুর মান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন তিনি।