শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইউজিসি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যমান ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমে আসবে।
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের প্রথম ধাপে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা অবকাঠামো এবং স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এতে দেশের যেকোনো অঞ্চলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার ব্যবহারের সমান সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগিয়ে নেওয়া এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপি’র ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বিশ্বের যেকোনো দেশের কর্মবাজারে যোগ্যতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের অধীনে ২৫টি বিভাগে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী আউটকাম-বেইজড কারিকুলামের ভিত্তিতে পড়াশোনা করছেন।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বেসিক সায়েন্সের নতুন বিভাগ চালু, শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘নজরুল সিটি’ বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।