শিরোনাম

মো. আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর
ময়মনসিংহ, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ময়মনসিংহ নগরীতে ভবনের নকশা অনুমোদন ও নির্মাণকাজে কঠোর নজরদারির ঘোষণা দিয়েছে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক)।
এক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে সরেজমিনে জমি পরিদর্শন করা হবে এবং অনুমোদনের পর তিন বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না হলে নকশার অনুমোদন বাতিল করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালেও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ গণপূর্ত ভবনে মউকের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মউকে’র চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হওয়ার পর নগরীর সব ভবনের নকশা বিসি কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে পাস হবে। নয় সদস্যের কমিটির সভাপতি হিসেবে চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।
সভা শেষে মউকের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর বার্তা দিয়ে চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, ইতোমধ্যে নকশা অনুমোদনের জন্য কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। অনুমোদনের আগে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত পরিদর্শকরা জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। রাস্তার সংযোগ, নির্ধারিত সেটব্যাক, খোলা জায়গা এবং অন্যান্য বিধিমালা প্রতিপালন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পরই নকশা অনুমোদন দেওয়া হবে।
এরপর ভবন নির্মাণের সময়ও নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পর নগরীর আগে থেকে নির্মিত ভবনগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে। যেখানে সম্ভব ভবন সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা করা হবে। জরিমানার অর্থ মউকের তহবিলে জমা হয়ে নগর উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে সব ভবনে পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, আবাসন সংকট নিরসনে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে পরিকল্পিত নতুন নগর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য আবাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস ও পার্কসহ আধুনিক নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে অধিগ্রহণ করা ৯৪৫ একর জমির একটি অংশ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
এ সময় নগরীর যানজট নিরসনে ময়মনসিংহকে মেট্রোপলিটন এলাকা ঘোষণা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মউক চেয়ারম্যান। পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগর গঠনে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী ব্রহ্মপুত্রের ওপারে পরিকল্পিত একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরায়ন করার জন্য প্ল্যান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিসি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মউক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে কমিটির ৯ জন সদস্যের সবাই উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে দুইজন সদস্য ভার্চুয়ালী অংশ গ্রহণ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মউকের বিসি কমিটির সদস্য সচিব গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সিগ্ধা দাস, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাইকা বিনতে আলম, মউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ইফতেখার আলম, পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইশরাত জাহান।
মউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, অতীতে যারা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে ছিলেন তারা অতিরিক্ত যানবাহনের লাইসেন্স দিয়ে যানজট সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান সিটি প্রশাসক যানজট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে যানজট সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করবো।
এ সময় তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে বলেন, সিটিকরপোরেশনের খাল পুনঃ খনন করা হলে সামান্য বৃষ্টিতে আর জলাবদ্ধতা হবে না।