শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রামে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তবে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ডেভিড ইমনের অবস্থান এখনো শনাক্ত করতে পারেনি বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
তিনি বলেন, ঘটনার পর চকবাজার থানা, সিএমপি’র একাধিক বিশেষ টিম ও র্যাব-৭ যৌথভাবে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলোÑ মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) ও মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে পাঁচটি, ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি, আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. সুমনের বিরুদ্ধে ছয়টি, মো. মনির ওরফে কেহেরমানের বিরুদ্ধে সাতটি ও মো. নয়নের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, মানবপাচার, চোরাচালান, ডাকাতি, চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে ডিডিএন-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন দুই কোটি টাকা ও পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৩ জুলাই দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইনের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে।
এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়।
ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ জুলাই চকবাজার থানা একটি মামলা করা হয়।