শিরোনাম

খুলনা, ১৫ জুলাই, ২০২৬, (বাসস) : নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় দায়েরকৃত জোড়া হত্যা মামলায় আদালত ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ বুধবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে একজন বাদে অন্যরা পলাতক রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÑ ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, সিদ্দিক, ওয়াসিম ওরফে দাদ ওয়াসিম ও জব্বার। এদের মধ্যে গাড়ি ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তবে রায়ের সংবাদ আগে থেকে জেনে অন্যান্য আসামিরা আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যায়।
আদালত সূত্র জানায়, রূপসা উপজেলার খান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শেখ মহিউদ্দিনের ছেলে মো. হায়দার ওরফে কানা হায়দার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি মেটেপোল এলাকার বাসিন্দা ফারুকের মেয়ে মর্জিনাকে বিয়ে করেন।
এরপর থেকে তিনি ওই এলাকায় বসবাস করতে থাকেন। তার সাথে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে কানা সিদ্দিক, নাসির, মুক্তা ও বেটে রফিকের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল।
মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে উল্লিখিত আসামিরা রামদা, ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র নিয়ে হায়দারের ঘরে প্রবেশ করে তার বুকের ডান ও বাম পাশে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এগিয়ে এলে আসামিরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে।
ঘটনার সময় হায়দারের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হায়দারের মৃত্যু হয় এবং এর কিছুক্ষণ পর তার শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকুও মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত হায়দারের ভাই তৈয়ব আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই বছরের ১৩ আগস্ট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।