বাসস
  ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫৪
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:০৯

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ কক্সবাজার জেলা সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ছবি : বাসস

ঢাকা, ১৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেছেন, কোন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না। সরকার শুরু থেকেই কক্সবাজারের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। 

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তার লক্ষ্যেই অতিরিক্ত ত্রাণ ও নগদ সহায়তার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে কক্সবাজার জেলার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

আজ এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি, ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। 

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবারকে সহায়তার জন্য সভায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত চাহিদা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আরও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনা। আর এ জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সহায়তা, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পুনরায় নির্মাণ এবং কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

পাহাড়ধসে প্রাণহানির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের বিকল্প স্থানে জমি ও গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 

তিনি বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বা দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলকেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।

ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সংস্কারের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। 

আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইস গেট ও বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান।

এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।