বাসস
  ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২০

চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি মানিক 

ছবি : বাসস

চাঁদপুর, ১২ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ আট বছর ধরে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে থমকে থাকা চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পে অবশেষে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। প্রকল্প এলাকার সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের প্রথম ধাপ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
 
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এরপর শুরু হবে বহুল প্রত্যাশিত হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মাণ।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আজ সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা এলাকায় প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সরকারি নীতির অংশ হিসেবেই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা আইন অনুযায়ী শতভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনো জটিলতা দেখা দিলে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ বাস্তবায়িত হলে শুধু জেলার মানুষই নয়, আশপাশের একাধিক জেলার বাসিন্দারাও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপও অনেকাংশে কমবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রকল্প পরিচালক ও চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ। তিনি জানান, ইসলামপুর গাছতলা মৌজায় প্রায় ৩০ দশমিক ২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে এবং বর্তমানে জমির মালিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজের ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে।

ড্যাব চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. সৈয়দ আহমেদ কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম সলিম উল্যা সেলিম, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেলা নাজনীন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দ্বীন, ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. মোবারক হোসেন চৌধুরী, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।