শিরোনাম

নেত্রকোণা, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার সদর উপজেলার মদনপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার ও আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিনহাজুল হক আকিল, এসআই মোশাররফ হোসেন ও এসআই শেখ তৌফিক আমীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে মদনপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সদস্য আব্দুছ ছালামের গোয়াল ঘর থেকে ৭টি, রফিকুল ইসলামের গোয়াল ঘর থেকে ৩টি এবং লুত মিয়ার গোয়াল ঘর থেকে ৩টিসহ মোট ১৩টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চোর চক্রের সদস্য আব্দুছ ছালামকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ১৩টি গরুর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় নেত্রকোণা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের পূর্বক আটক আ. ছালামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, জেলা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া গরুর তথ্য সারাদেশে বেতার বার্তার সাহায্যে প্রচার করা হলে পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর থানা এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মডেল থানায় এসে ৭টি গরু নিজেদের বলে শনাক্ত করেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ মালিকানা যাচাই শেষে প্রকৃত মালিকদের কাছে গরুগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, গ্রেফতারকৃত আ. ছালামের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই আকামল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের আরেকটি টিম শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মদনপুর পূর্ব পাড়ায় পুনঃরায় অভিযান চালায়। দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে মো. আজিম মিয়া (৪০) এর গোয়াল ঘর থেকে ২টি এবং মো. অনিক মিয়া (২৫) এর গোয়াল ঘর থেকে ২টি গরু উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। দুই দফার এ বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, গরু চোর চক্রের মূল গডফাদারদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান এলাকাবাসী।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বাসসকে বলেন, উদ্ধারকৃত গরুগুলো বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং মালিকানা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ গরু চুরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।