বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১:৩০

ভোলার নিম্নাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করেছে, জনমনে স্বস্তি 

ছবি : বাসস

 আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা,৯ জুলাই ২০২৬ (বাসস): বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে থাকা উপকূলীয় জেলা ভোলার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও আজ বৃষ্টিপাত অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আকাশ এখনো মেঘাচ্ছন্ন। গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল থাকলেও ভোলার মেঘনা নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। নিম্মাঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি পাওয়া জোয়ারের পানি কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। 

জেলার মনপুরা উপজেলার চরাঞ্চল, চরফ্যাশনের ঢাল চর, চর কুকরী-মুকরী, চর পাতিলা, কচ্ছপিয়া, ভোলা সদরের ইলিশা, রামদাসপুর, মাঝের চর, বরাইপুর, দৌলতখানের মদনপুর, হাজীপুর চর নেয়ামতপুরে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানির উচ্চতা এখন কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিগণ।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাসসকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েকদিন ভোলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নাগাদ বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

তিনি জানান, গত রোববার ভোর ৬টা পর্যন্ত ভোলা জেলায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে আবহাওয়ার উন্নতি হলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ভোলা নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসসকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা আজ থেকে স্বাভাবিক করা হয়েছে। ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর-ঢাকা নৌপথে ফেরি ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্যোগের সার্বিক খোঁজখবর রাখতে উপজেলাব্যাপী নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতির ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আবহাওয়া অস্বাভাবিক না হলে নদীপথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও নৌযান সংশ্লিষ্টদের সতর্কতার নতুন বার্তা দেওয়া হবে। 

তবে আজ বিকেল ৬টা নাগাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো।