শিরোনাম

মোফাজ্জেল হোসাইন
বরিশাল, ৯ জুলাই ২০২৬ (বাসস) : কাগজ দিয়ে দ্রুততম সময়ে স্নো-ফ্লেক বা তুষারকণা তৈরি করে এ বছর তৃতীয়বারের মতো গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন বরিশালের কলেজ রোডের বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা। নিপাই বাংলাদেশের প্রথম নারী, যার নাম তিনবার উঠেছে বিশ্বরেকর্ডের খাতায়।
এর আগে দ্বিতীয়বার নিপা কয়েন দিয়ে দ্রুততম সময়ে টাওয়ার বানিয়ে নাম লিখিয়েছিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে। পরের বার চপস্টিক দিয়ে ভাত খাওয়ার রেকর্ডও যায় তার দখলে।
তবে এখানেই শেষ নয়। বাসসের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে চতুর্থবার গিনেস বুকে নাম লেখাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্রী।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্রুততম সময়ে ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক’ বা তুষারকণা তৈরি করে রেকর্ডটি করেন তিনি। এর আগে ‘কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে রেকর্ডটি ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে চীনের দখলে ছিল।
নিপা বলেন, আমি ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে শেষ করে রেকর্ডটি বাংলাদেশে এনেছি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই রেকর্ড করা হলেও কিছুদিন আগে সার্টিফিকেট পেয়েছি। কাগজ বিভিন্নভাবে কেটে, ভাঁজ করে তুষারকণার মতো তৈরি করে এ রেকর্ড গড়েছেন বলে তিনি জানান।
২০২১ সালে মহামারি করোনার সময় এক হাতে এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করেছিলেন নিপা। ইতালির সিলভিও সাব্বারের গড়া রেকর্ড ভেঙে তিনি প্রথমবার নাম লেখান গিনেস বুকে। পরে ২০২৪ সালে চপস্টিক দিয়ে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে গড়েছিলেন দ্বিতীয় রেকর্ড।
বেসরকারি কলেজের শিক্ষক নিপা বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব। আমার খেলাধুলার শখ থাকলেও বরিশালে মেয়েদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরে বসেই দেশ ও আমার শহর বরিশালকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে এ রেকর্ড করেছি। ভবিষ্যতেও আমার এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে’।
পরের বারের রেকর্ড কী নিয়ে করবেন? জানতে চাইলে রহস্যময় কণ্ঠে তার উত্তর-‘দেখা যাক!’
নিপার বাবা দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু বাসসকে বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে নিপা। সে ছোটোবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তার এ সাফল্য শুধু বরিশালবাসীর নয়, সারা বাংলাদেশের জন্য। আগামীতে সে আরো ভালো কিছু করবে বলে আশা করি।’
বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর শাহ সাজেদা বাসসকে বলেন, মেয়েটি একবার নয়, তিন তিনবার গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে। যা সত্যিকার অর্থেই আমাদের বরিশালের জন্য গর্বের। আমাদের সমাজে মেয়েরা বেশিরভাগ সময়ই পিছিয়ে থাকে। নিপা সেই রেকর্ডও ভেঙেছে।
তিনি বলেন, নানান প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিপা যে গৌরব অর্জন করেছে, সেটি আমাদের জন্য গর্বের। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে সমাজের নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে মেয়েরাও এগিয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে তাদের জন্য সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এ ধরনের সফলতার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উচিত হবে তাদের সহযোগিতা ও সম্মানিত করা।
এতে সমাজের অন্য মেয়েরাও বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এগিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে।