বাসস
  ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৯

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং এই সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরো কার্যকরভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
 
আজ রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি) কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, গবেষক, মানবাধিকার কর্মী ও থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‘নেভিগেটিং রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইজ রিপ্যাট্রিয়েশন অ্যা ডিস্ট্যান্ট ড্রিম?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ (সিসিডি) এবং বিআইআইটি ট্রাস্ট।

বৈঠকে সিসিডি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও বিআইআইটি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজচিন্তক ও দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইয়াসিন আকতাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ইয়াসিন আকতাই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্ব এবং অংশীদারিত্বের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে তুরস্ক সবসময় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’

তুরস্ক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায় উল্লেখ করে তিনি শরণার্থীদের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরো বেগবান করার আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের জন্য রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি বর্তমান সময়ের অন্যতম মানবিক সংকট। এই সমস্যা এখন আর কেবল দু’টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।’ 

তিনি এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সংহতি, কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং থিংকট্যাংক ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি বর্তমানে অনেকটাই উপেক্ষিত। সীমিত সম্পদ ও উচ্চ জনসংখ্যার চাপ থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১৪ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে কক্সবাজার ও ভাসানচরের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক-অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
 
তাছাড়া মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তার অভাব দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব প্রদান এবং রাখাইন অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসিসহ মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর মধ্যকার সংহতি আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে আন্তর্জাতিক ফোরামে তুরস্ককে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তারা।

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আরো আলোচনায় অংশ নেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা-সচিব ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আনিসুজ্জামান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ড. আবুল হাসান মু. সাদেক, ডেইলি সাবাহ’র সিনিয়র সম্পাদক ইসাম শেহাদাত, আল-কুদস ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনের উপ-মহাপরিচালক ড. আইমান জেইদান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, দৈনিক নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, তুরস্কে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ মান্নান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম প্রমুখ।