বাসস
  ০২ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৫

ময়মনসিংহে ৫৩টি পরিবারে সেলাই মেশিন ও হুইলচেয়ার বিতরণ

ছবি : বাসস

ময়মনসিংহ, ২ জুলাই, ২০২৬, (বাসস): ময়মনসিংহে ৫৩টি অসহায়, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের মধ্যে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন এবং বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

আত্মনির্ভরশীল ও কর্মজীবী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দে এসব সামগ্রী দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে পৃথক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। 

এ সময় তিনি সুবিধাভোগীদের কাছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া চান।

এর আগে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এডিপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল, টেনিস বল এবং স্ট্যাম্পসহ দুটি করে ক্রিকেট ব্যাট দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন, উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাফিজ, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি হেলাল আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আতাহারুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, বিজাতীয় সংস্কৃতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভালো কাজে প্রতিবন্ধকতা আসবে, তবে তা স্থায়ী হয় না।

মাদকের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকে গ্রাস করে ফেলেছে আমাদের সমাজব্যবস্থা। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়তে হবে। এজন্য সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আপনাদের পাশে আছি।

খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে ৮২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে ১৫টি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এর সঙ্গে চারা গাছ রক্ষণাবেক্ষণে সার এবং বেড়ার বাঁশও দেওয়া হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোবাইরা বেগম সাথী এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্প্রতি সদর উপজেলার ১৬৬টি মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৯৮টি রাস্তার কাজ বর্তমানে চলমান। এছাড়া ৬টি স্কুল, মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ৬টি মন্দিরের উন্নয়নকাজে দেওয়া হয়েছে বরাদ্দ এবং প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুতল ভবন নির্মাণকাজ প্রক্রিয়াধীন।